ছবি । হোয়াট্‌স্‌ অন ইয়োর মাইন্ড, প্রফুল্লময়ী? (০২)

বড়দিন হইতে কলিকাতা মহানগরে শীতের প্রকোপ যারপরনাই বাড়িয়াছে। একটির উপর দুইটি, দুইটির উপর তিনটি উষ্ণতাপ্রদানকারী পোষাক পরিধান করিয়াও যথেষ্ট আরাম অনুভব হইতেছে না। ক্ষণে ক্ষণে শৈশবে পঠিত 'উহঃ কী শীত, বসে গাও গীত' মনে পড়িতেছে। কিন্তু শুধুমাত্র শীতকাল আসিয়াছে বলিয়া সমস্ত কাজকর্ম ফেলিয়া গীত গাইবার বিলাসিতা করিবার মত সময় কিংবা পরিস্থিতি কাহারই বা আছে! আর গীত গাইব বলিলেই তো হইল না। কোথায়, কাহাদিগের সম্মুখে, কাহাদিগের পৃষ্ঠপোষকতায়, কাহাদিগেরই বা অনুপ্রেরণায় কোন কোন গীত গাওয়া হইতেছে, বা গাওয়া যাইতে পারে, বা গাওয়া উচিত, বা অনুচিত --- এমন সমস্ত অত্যাবশকীয় বিষয়গুলি অতি শীঘ্রই সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে আলোচিত হইবে বলিয়া মনে হয়। বলা যায় না, বিল পাশ হইয়া নূতন আইনও প্রণীত হইতে পারে।আজিকালি এই সোনার দেশে, সব অসম্ভবই সম্ভব। বরং যাহা যাহা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব বলিয়া জানা ছিল, দিনে দিনে সে সমস্ত কিছু অসম্ভবে পরিণত হইতেছে।

প্রফুল্লময়ী আপন এমত অপ্রয়োজনীয় চিন্তাজালে মগ্ন থাকিলেও, একই সঙ্গে তিনি নূতন বৎসরের আগমন উপলক্ষ্যে 'রাম কেক' নামক বিদেশী ধাঁচে মিঠা পিষ্টক বানাইবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বর্ষশেষের শীতল দিনগুলিতে এমন বিদেশী খাদ্য প্রস্তুত এবং ভক্ষণ করিবার বদ অভ্যাস, বহুযুগ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকা উপমহাদেশের অধিকাংশ মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকিয়া আছে। ইদানীং অবশ্য দেশের গুরুজনেরা বলিতেছেন যে এই সমস্ত অভ্যাস সনাতনী সন্তানদিগের সাংস্কৃতিক, চারিত্রিক ও মানসিক পতন ঘটাইতেছে। এহেন পতন ঠেকাইবার লক্ষ্যে, কিছু বীর সনাতনী বড়দিনের উৎসব চলাকালীন যত্রতত্র রক্তিম শিরোভূষণ বিক্রেতাদিগকে উত্যক্ত করিয়াছে, গীর্জা ভাঙিয়াছে এবং গীর্জার সম্মুখে হনুমান চলিশা পড়িয়াছে। কিন্তু তাহাতে দশদিকে সনাতনী সমাজে 'কেক' ক্রয়-বিক্রয় অথবা উল্লাসমুখর আনন্দ উৎসব (সনাতনী অভিধানে যাহা 'পার্টি' বলিয়া পরিচিত) উদযাপনের হার হ্রাস হইয়াছে কিনা সে বিষয়ে অবশ্য কিছুই জানা যায় নাই।

গোধূমচূর্ণের সহিত পরিমাপমত নবনীত, শর্করা, সুগন্ধী মশল্লা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মিলাইতে মিলাইতে প্রফুল্লময়ীর পুনরায় তমালতরুকে মনে পড়িল। তমালতরু ও তাহার পরিবার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সমাজের অংশ। রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে অস্থির বাংলাদেশে কেমন আছে তাঁহার সেই অদেখা তরুণ ভ্রাতাটি ? প্রফুল্লময়ী মনে মনে বিচলিত হইলেন। বহুদিন তিনি তমালতরুকে কোনো বার্তা প্রেরণ করেন না, তাহার খোঁজ লইবার কথা মনেও থাকে না --- 'আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড' অবস্থা কি ইহাকেই বলে? না কি তিনি সচেতনেই তাহাদের খোঁজ রাখা হইতে নিজেকে বিরত রাখিয়াছেন কারণ তিনি জানেন তিনি আদতে তমালতরুকে কোনোপ্রকার যথার্থ সাহায্য করিতে অক্ষম?

একবিংশ শতক এবং বিশেষ করিয়া গত এক দশক প্রফুল্লময়ীকে অনেকগুলি শব্দের সহিত পরিচয় করাইয়াছে, বা বলা ভালো সেগুলির রাষ্ট্রনির্ধারিত সংজ্ঞা হাতুড়ি ঠুকিয়া ঠুকিয়া তাঁরা মন ও মস্তিষ্কে প্রোথিত করিবার চেষ্টায় লিপ্ত রহিয়াছে। সংখ্যালঘু, অনুপ্রবেশকারী, ঘুস্‌পেটিয়া, নাগরিকত্ব, সেক্যুলার হইল এমন কয়টি শব্দ। সংখ্যাগুরুদিগের দেশে সংখ্যালঘু হইয়া বাঁচিয়া থাকিতে কেমনই বা লাগিতে পারে , সে বিষয়ে সম্যক ধারণা করা প্রফুল্লময়ীর পক্ষে সম্ভব নহে, কারণ তাঁহার নামের সহিত সম্পর্কিত সমস্ত নথী তাঁহাকে এই দেশের মাটিতে সোচ্চারে শুধু সংখ্যাগুরু নয়, একই সঙ্গে 'উচ্চঘর, কংসরাজের বংশধর'-ও প্রমাণ করিতেছে। তবে প্রফুল্লময়ী জানেন, স্থান-কালের পরিবর্তনে, এই গুরুত্ব যেকোনো মুহূর্তে লঘুত্বে পরিণত হইতে পারে। আপন রাজ্য ছাড়িয়া এই দেশের অন্য যে কোনো রাজ্যেই তিনি ভাষাগতভাবে এবং জাতিগতভাবে সংখ্যালঘু। আবার, আপন প্রতিবেশে, ধর্মনিরপেক্ষ বা সেক্যুলার ( বঙ্গীয় কটূক্তি অভিধানে টপ টেন ট্রেন্ডিং শব্দের তালিকায় বহু বছর সফলভাবে প্রথম স্থানে) হওয়ার কারণেও তিনি সংখ্যালঘু । এবং অবশ্যই, এই বিপুলা পৃথিবীতে, শুধুমাত্র নারী হইবার কারণেই তিনি সংখ্যালঘুদিগের দলে পড়েন। ভাবিবার বিষয় হইল, তথাকথিত লঘুরা না থাকিলে তথাকথিত গুরুরা আপন গুরুত্ব কাহার বিপরীতে দাঁড়াই মাপিত, সেইটি কেউই বিশেষ ভাবিয়া দেখে না। এই যে তিনি পিষ্টকটি বানাইতেছেন, ইহাকে সফলভাবে পাক করিতে হইলে মূল উপাদানগুলির তুলনায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিমাণে অম্ল এবং ক্ষার যোগ করিতে হয়। গোধূমচূর্ণ এবং শর্করা ও নবনীতের মিশ্রন আপনাদিগের সংখ্যাগুরুত্বকে অতি গুরুত্ব দিয়া, সংখ্যালঘু অম্ল ও ক্ষারের সহিত সমন্বিত হইতে না চাহিলে, যতই সুদৃশ্য পাত্রে গাত্র এলাইয়া বসুক না কেন, সুদীর্ঘ সময় উদ্‌ধ্মানে তাপিত হওয়া শেষ অবধি বিফলে যাইবে। দুঃখের বিষয় হইল, যুগ যুগ ধরিয়া দৈনন্দিন জীবন এই সাধারণ জ্ঞানের পাঠ জীবজগৎকে দিয়া থাকিলেও, প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ যে বাঁচিয়া থাকিবার যাবতীয় সহজ পাঠ ভুলিতে বসিয়াছে সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নাই।

প্রাথমিক দ্রব্যাদিসমূহকে মনোমত করিয়া মিলাইয়া লইয়া প্রফুল্লময়ী মদিরাজারিত নানাবিধ শুষ্ক ফল ও বাদামের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ড মিশাইতে লাগিলেন। রাম কেক বা বড়দিনের ফ্রুট কেকে যত রকমের ফল ও বাদামের খন্ড যায়, আদতে সবগুলিই কোনো না কোনো যুগে এই দেশে অনুপ্রবেশকারী ছিল। কালে কালে তাহারা এই দেশের আমিষ এবং বিশেষভাবে নিরামিষভোজীদিগের দৈনন্দিন জীবনের সহিত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়াইয়া গিয়াছে। ঘুসপেটিয়া বলিয়া তাহাদিগকে কেহই বর্জন করে নাই, ক্রেনে তুলিয়া দূরে ছুঁড়িয়া ফেলে নাই, নৌকা চাপাইয়া সমুদ্রে ছাড়িয়া দেয় নাই বা মারিতে মারিতে মারিয়া ফেলে নাই। বরং বিবিধ রঙের, বিচিত্র স্বাদের, বিভিন্ন কাঠিন্যের ফল ও বাদামগুলি কেকের মিশ্রনের মধ্যে অনায়াসে মিশিয়া যায় এবং সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু , শুষ্ক ও তরল উপাদানগুলির সহিত একযোগে তাপিত হইয়া, কেকের অবিসংবাদিত অঙ্গ হইয়া ওঠে। দুনিয়ার যতেক সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু, উৎসবে আনন্দে এমন সুখাদ্যটি কিনিয়া কিংবা বানাইয়া খায়, আত্মীয়পরিজনদিগকে খাওয়ায়, খাইয়া ও খাওয়াইয়া আনন্দলাভ করে, সময়ে সময়ে হয়ত অনুপ্রবেশকারীদিগকেও চিনিয়া বা না চিনিয়া খাওয়াইয়া থাকে, তবুও মিলিয়া মিশিয়া বাঁচিবার সরল সত্যটিকে কত অনায়াসে ভুলিয়া বসিয়া আছে!

সযতনে পিষ্টকটিকে তৈরি হইতে দিয়া প্রফুল্লময়ী আপনার পরিগণকের সম্মুখে বসিলেন। আজিকালি ফেসবুক নামক সামাজিক মাধ্যমটি প্রফুল্লময়ীকে একই সঙ্গে বাকরুদ্ধ এবং আমোদিত রাখে। দশদিক হইতে আসা বিবিধ ক্রূরতা ও নৃশংসতার সংবাদ তাঁহাকে বাকরুদ্ধ করিয়া রাখে। এমনই এক পৃথিবীতে তিনি বসবাস করিতেছেন ভাবিতে অসুবিধা হয়। পৃথিবী হয়ত চিরকালই এমন ছিল। তবে সামাজিক গণমাধ্যমের অস্তিত্ব না থাকায়, অষ্টপ্রহর এমন অযুত নিযুত তথ্য, সত্য এবং অসত্য এমন বাঁধভাঙা বন্যার মত আসিয়া মানবসমাজকে ক্ষণে ক্ষণে আন্দোলিত করিয়া তুলিত না। আর আমোদ কেন? ফেসবুক স্ক্রল করিয়া করিয়া প্রফুল্লময়ী বুঝিয়াছেন, দুনিয়ার প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে দুইজন প্রাজ্ঞ ইতিহাসবিদ এবং প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে তিন জন আপন আপন ধর্মের ধ্বজাধারী। প্রফুল্লময়ীর ইতিহাসে উৎসাহ ছিল, ছাত্রাবস্থায় পরীক্ষায় ভালোই ফল করিতেন। কিন্তু এমন প্রবল ইতিহাসপ্রীতি তাঁহার ছিল না। আর ধর্মাচরণ বিষয়টিকে প্রফুল্লময়ী আপন মানচিত্র হইতে আপন বোধবুদ্ধির ইরেজার দিয়া ঘষিয়া ঘষিয়া প্রায় তুলিয়া ফেলিয়াছেন। এই দুইটি কারণেই, একবিংশ শতকে আসিয়া তিনি সফল দেশপ্রেমী হইয়া উঠিতে পারেন নাই। কিন্তু সাচ্চা দেশপ্রেমী না হইলে দেশ ও দশের চিন্তা করা বারণ, এমন ছাপ্পান্ন ইঞ্চির আইন সৌভাগ্যক্রমে অদ্যাবধি এই সোনার দেশে প্রণীত হয় নাই। তাই, সুযোগ পাইলেই প্রফুল্লময়ী নানা বিষয় লইয়া আপনার সহিত আলোচনায় নিমগ্ন হইয়া থাকেন। অমিতাভ বচ্চন মূর্খপেটিকায় দেখা দিয়া মধ্যে মধ্যে বলিয়া থাকেন দেশের মানুষের গড় আয়ু নাকি আশি বৎসর হইয়াছে। এমতাবস্থায়, গণনা করিলে দেখা যাইবে, এই দেশের একজন গড় মানুষ ( বিশ্বপিতা বা ময়ুরের অশ্রু হইতে উৎপন্ন অবতার নহে) জীবনের প্রথম কুড়িটি বৎসর 'দেখো আমি বাড়ছি মাম্মি' গাহিতে গাহিতে অতিবাহিত করে; শেষ কুড়িটি বৎসর নানাবিধ আধি-ব্যাধি লইয়া ব্যতিব্যস্ত থাকে। আর মাঝের চল্লিশটি বৎসর পরিচিত বা অপরিচিত মানুষদিগের সহিত, অসম্ভব এবং অপ্রয়োজনীয় বিবাদে লিপ্ত থাকিয়া , শত্রু বৃদ্ধি করিয়া, বন্ধুদিগের সহিত সম্পর্ক নষ্ট করিয়া মনে করে দেশহিতৈষণা করিতেছে। নিত্যদিন এমন দুর্বিষহ পরিশ্রম করিয়া, জাত-জাতি-সমাজ লইয়া কোন্দলে নিমগ্ন থাকিয়া, হোয়াটস্‌অ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয় হইতে সাম্মানিক অর্জন করিয়া জীবনযাপন করা বড়োই দুষ্কর। ইঁহাদের কথা ভাবিয়া প্রফুল্লময়ী একযোগে ভীত এবং দুঃখিত হন। তবে প্রফুল্লময়ী ইদানীং সর্বাধিক আস্থা রাখিতেছেন দেশের অগুন্তি স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ানদিগের উপর। তরুণ প্রজন্মের এই মেয়ে ও ছেলেগুলি হাসিয়া এবং হাসাইয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করিতেছে, রাষ্ট্রের সমালোচনা করিতেছে দেখিয়া প্রৌঢ়া প্রফুল্লময়ীর মনে হয়, নাহ! হয়ত এখনও সব কিছু শেষ হইয়া যায় নাই। তিনি বা তাঁহার প্রজন্ম এই বিশ্বকে কোনো নবজাতকের জন্যই বাসযোগ্য তো দূর অস্ত, বাঁচিবার যোগ্যই করিয়া রাখিতে পারেন নাই। এমতাবস্থায় এই তরুণ-তরুণীরাই ভরসা যোগায়।

যান্ত্রিক উদ্‌ধ্মান ঘন্টা বাজাইয়া জানাইল প্রফুল্লময়ীর বিশেষ পিষ্টকটি প্রস্তুত হইয়াছে। অবশ্য তাহার সুঘ্রাণ পূর্বেই বিকীর্ণ হইয়া তাঁহাদিগের ক্ষুদ্র গৃহটিকে আমোদিত করিয়াছিল। উষ্ণ খাদ্যবস্তুটিকে কিঞ্চিৎ শীতল হইতে দিয়া প্রফুল্লময়ী ফেসবুকে ফিরিলেন। ফেসবুক নিয়মিত প্রশ্ন করে, 'হোয়াট্‌স অন ইয়োর মাইন্ড, প্রফুল্লময়ী?'। এই মূহুর্তেও সেই প্রশ্নটির উপরেই প্রফুল্লময়ীর দৃষ্টি নিবদ্ধ হইল। এই অর্বাচীন, উপাত্তবিলাসী বৈদ্যুতিন প্রতিবেশ আপন লাভ ব্যতীত কিছু বুঝে না। তাঁর মধ্যবয়সিনী জটিলা মাইন্ড কী কী দেখিয়া আনন্দিত, উত্তেজিত বা দুঃখিত হয়, জানিয়া লইয়া তাঁহাকে বুঝিবার চেষ্টা করিয়া থাকে। অনেকাংশে সফলও হয়, কারণ, অ্যাট দি এন্ড অফ দ্য ডে, প্রফুল্লময়ী সামান্যা মানবী ব্যতীত আর কীই বা! তাই ফেসবুক সযতনে এবং সুকৌশলে ইতিহাস, ধর্ম, হাস্যকৌতুক ও জ্ঞানভান্ডার সংক্রান্ত প্রাচীরলিখন ও চিত্র গুলির মধ্যে মধ্যে শাটিকা, অলংকার, রন্ধনশিল্প, হস্তশিল্প প্রভৃতি বিষয়ক লিখন ও চিত্র উপস্থাপন করিয়া থাকে। এমনই পরিস্থিতি, যে প্রফুল্লময়ী সম্পূর্ণ সজ্ঞানে, বনাঞ্চল ধ্বংস ও বনবাসীদিগের উপর অন্যায় অত্যাচার হইবার সংবাদ শ্রবণ করিতে করিতেই অপূর্ব কারুকাজপূর্ণ শাটিকার চিত্রে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া থাকেন; গণহত্যা বিষয়ক চলমান চিত্র দেখিবার অনতিকাল পরেই পলান্ন রন্ধন প্রক্রিয়ায় মনোনিবেশ করিতে সক্ষম হইয়া থাকেন।

তবুও, নূতন বৎসরের প্রাক্কালে, প্রফুল্লময়ীর মনে হইয়াছিল, তাঁহার মনের ভিতর লুকোচুরি খেলিয়া বেড়ায় যে সমস্ত ভাবনাচিন্তা, সেসবের কিছু এই অর্বাচীনটির সহিত ভাগ করিয়া লইবেন। সেইমত ভাবিয়া দুই-চারি ছত্র লিখিয়াওছিলেন, তবে নানাবিধ অপ্রয়োজনীয় কর্মে সময় ব্যয় করিবার কারণে, সেই রচনা সময়মত শেষ করিয়া উঠিতে পারেন নাই। শেষ অবধি, নূতন বৎসরের প্রথম দিনটি যখন প্রায় সমাপ্ত হইতে চলিয়াছে, তখন প্রফুল্লময়ী আপনার চিন্তাজাল গুটাইয়া আনিয়া রচনাটি শেষ করিলেন। ফেসবুক তাঁহাকে সম্বৎসর অদ্ভূত রসে নিমজ্জিত করিয়া রাখে। তাহারও কিছু 'সিজন্‌স্‌ গ্রিটিংস্‌' অবশ্যই প্রাপ্য। এই উপহার তাহার অ্যালগরিগমের বোধগম্য হইবে কি না, সেই বিষয় লইয়া প্রফুল্লময়ী আপন মস্তিষ্ককে বিচলিত করিবেন না।

আজিকালি রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে শারদীয়া পত্রিকা প্রকাশিত হইয়া থাকে। প্রফুল্লময়ী তো শুধুমাত্র পূর্বাহ্নের পরিবর্তে রাত্রি দ্বিপ্রহরে আপন প্রাচীরগাত্রে আপন লিখনটি উপস্থাপিত করিলেন! ফেসবুক এবং সমাজ এই সামান্য বেনিয়ম মানিয়া লইবে বলিয়াই মনে হয়।